একটা বাচ্চা একটা
মুসলমান ঘরে জন্মগ্রহণ করল। জন্মসূত্রে সে মুসলমান
হয়ে গেল। সবাই অনেক খুশী, বাবা মাইয়ের একমাত্র আদরের ধন তাকে
নিয়ে সবার কথা আল্লাদ। বাবা মা ঠিকমত নামাজ পড়েন না, বেহায়াপনা-বেলাল্লাপনায়
ব্যস্ত, আতি আধুনিকতার ছোয়া তার আচার আচরনে পোশাক
পরিচ্ছদে আর যার গুণে সে নিজেকে স্মার্ট মনে করছে। এই বাবা মা তাদের জীবনাচরণ
আস্তে আস্তে তাদের বাচ্চার ভেতরে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। হাদিসে আছে "প্রত্যেক
সন্তান ইসলামী হকিকত এ জন্মগ্রহণ করে। বাবা মা পরিবেশ তাকে ইহুদী, খ্রিস্টান ,নাসারা বানায়"। আচ্চা যাই হোক
বাচ্চা বর হচ্ছে সাথে সাথে তার আধুনিক চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে আর একমাত্র সন্তান
বাবা মা তো তার ইচ্ছা কখনই অপূর্ণ রাখবে না। ভাল স্কুলে ভর্তি হচ্ছে, ভালো পড়াশুনা করে আশপাশের পরিবেশের সাথে মানিয়ে বড় হয়ে উঠছে বাবা মায়ের
সামনেই। বাবা মা নিজেরা হয়ত একতু বয়সের কারণে একটু মাঝে মাঝে নামাজ কালাম পড়েন।
আসলে সবারইতো মরণের ভয় আছে তাই আর কি। যে ছাত্র কোনদিন পড়ে না সেও পরীক্ষার আগে
একটু পড়ে ভয়ে, তেমনে বয়স হলে মরতে হবে এটাই স্বাভাবিক তাই
তারাও কিছুটা নামাজ পড়েন। সন্তান থেকে এবার ছেলে বা মেয়েতে চলে যায়। আগে ছেলে,
ছেলে তখন কিশোর থেকে যৌবনের দিকে যাচ্ছে, তার সামনে আছে ইন্টারনেটের মত বিশাল এক জাল। সে তখন ইন্টারনেটের বদৌলতে সব জানে। বাবা মা বলবে বাবা নামাজ পড়তে যাও, জুম্মার নামাজও যদি না পড় তাহলে সবাই কি বলবে, দেখনা ওরা যায় নামাজ পড়তে তুমিও যাও। হয়ত ছেলে যাবে নামাজে কোনভাবে নামাজ পরে আসবে কিন্ত সঠিক ইসলামী জ্ঞানটা তার মধ্যে ঢোকানো হয় নাই, বাবা মা ঢুকিয়ে দেন নাই। এখন সে মাঝে মাঝে জুম্মার নামাজে যায়, হুজুরের বয়ান শোনে, বিভিন্ন ইসলামি ওয়াজ শোনে। এই যৌবনে এসে তার মনে হয়েছে তার সব জানা দরকার। কি করা যায় ভালো একজন হুজুরের কাছে কি শিখতে যাব, না না তাহলে মানসম্মানে বাধবে আমি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আর সে কোথাকার কোন মাদ্রাসা থেকে পরে এসেছে। না তার কাছে যাব না, আমি কি কম জানি, আমার আছে ইন্টারনেট। এবার সে ইন্টারনেটে সার্চ দেওয়া শুরু করবে। ইন্টারনেট একটা বিশাল বিষয়, এখানে ভালো যেমন আছে খারাপও তেমনি আছে। আর প্রযুক্তিতে পশ্চিমারা অনেক এগিয়ে, ওরায় ইন্টারনেটের অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করে। এবার ছেলেটা ইসলাম লিখে সার্চ দিলেই প্রথমে ধরা পড়বে উইকিবিডিয়া, সে মৌলিক ধারণা। ইসলাম বিদ্বেষীরা নানা সাইটে অনেক ইসলামের মন্দ দিক নিয়ে অনেক আলোচনা করেছেন। প্রথেমেই তার মাথায় যাবে মন্দ দিকগুলো। কেউ যদি আপনার কাছে এসে বলে আরে ওই হোটেলের খাবার খারাপ, পড়ে ওই হোটেলে খেতে গেলে আপনারও কেমেন খারাপ খারাপই লাগবে। যে কোন বিষয়ে খারাপ কিছু আগে শুনলে সেই বিষয়ে ভালো কিছু বের করা মিশকিল।
যাইহোক তাকে জানতে হবে ইসলাম সম্পর্কে, সে ইন্টারনেটে বিভিন্ন আর্টিকেল দেখবে। আর যৌবনের একটা সহজাত প্রবৃত্তি হলো নিজেকে যাহির করা, নিজেকে বড় ভাবা, গায়ের শক্তি দেখানো। আসলে রক্ত গরমতো তাই, সে দেখবে জিহাদের কথা, পড়বে অপব্যখ্যা। তার মনমানসিকতা বদলাবে, সে তার বাবা মাকেও আলাদা ভাবা শুরু করবে। তারা যে ইসলাম পালন করছে তা তারকাছে ভূল প্রমাণিত হবে। আর এই ছেলেটা নিয়মিত সাইটে যাচ্ছে, আর্টিকেল পড়ছে, নিজেও কিছু লিখলে এটাতো কেউ না কেউ দেখছে তাই না। যারা মন্দ কথাগুলো লিখেছে তারাতো নিয়মিতই দেখছে যে কারা কারা এখানে আসছে। ওই যে তখন তারা সেই ছেলেকে খুজে বের করবে, তাকে তার এতদিনের পড়া ইসলামের যক্তুগুলোএকটু ঘুরিয়ে তার নিজের যুক্তিকে শক্ত করবে। সে ভাববে এরাই তাকে বোঝে, তার জ্ঞানকে দাম দেই, এরাই তার বন্ধু, এরাই ঠিক। এরা যা বলছে, যা করছে সব ঠিক বাকি সব ভূল। সে তখন নিজে আর কোরআন হাদিস যাচাই করতে যাবে না, তারা যা বলবে যেভাবে বলবে সেটাই বিশ্বাস করবে। শুরু হবে তার শহীদ হওয়ার প্রক্রিয়া। শুরু হবে অন্যকে মেরে জান্নাতে যাওয়ার প্রক্রিয়া। এভাবেই জঙ্গীর উত্থান হচ্ছে আমাদের সমাজে। ওই যুবকের মাগজ কিন্ত হুট করে ধোলাই করা হয়নি, আস্তে আস্তে ধোলাই করা হয়েছে। তাই এখন সে নিজের বাবা মাকেও আর আপন ভাবে না এমন কি নিজের জীবনকেও না।
মেয়েদের ক্ষেত্রেও কিছুটা এমনই। আধুনিক একটা মেয়ে হঠাত করে বোরখা পরা শুরু করল? করতেই পারে , আল্লাহ তালাহ কখন কাকে হেদায়েত দেন কে জানে। কিন্ত না জিন্স, টিশার্ট পড়া মেয়েটা হঠাত আজ হিজাব বোরখা পড়ে এসেছে তার পেছনে কারণ আছে তো বটেই। সেও ইসলামের ছায়াতলে আসতে চাই, সেও ইন্টারনেটে ঘাটাঘাটি করেছে ইসলাম নিয়ে অনেক। মন্দ দিকের প্রতি সবারই একটা আগ্রহ বেশী থাকে, তাই সেও আস্তে আস্তে মন্দ দিকগুলো পড়বে। যারা আপনার ক্ষতি চাই তারা কখনই আপনার ভালো দিকগুলো বলবে না। ইসলামে শত্রুরা মনগড়া যুক্তি দিয়ে অনেক অনেক ভূল বের করে আপনার সামনে এনে হাজির করবে, তখন যুক্তির কারণে হলেও একসময় বিশ্বাস করতে বাধ্য হবেন আর তখনি আপনি তাদের কাছে ধরা দিতে শুরু করলেন। এবার মেয়েটাকে তার হঠাত অপরিচিত এক বান্ধবী জুটে গেলো যে কিনা তার সব কথায় সম্মতি দেই, তাকে সাপোর্ট করে। তখন সেও ভাববে তার আশপাশের কেউ তাকে বোঝে না শুধু তার বান্ধীই তাকে বোঝে। ওই বান্ধবীতো আগেই ওই পথের পথিক। তখন সেও আস্তে আস্তে জঙ্গীর রাস্তায় চলে যাবে।
এভাবেই আমাদের যুবসমাজ হয়ে যাচ্ছে জঙ্গী। আপনি খেয়াল করে দেখবেন, অভিযানে যেসব জঙ্গী ধরা বা মারা পড়ছে তারা বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান, ধনী বাবার সন্তান, শিক্ষিত পরিবারের সন্তান। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় পরিবারের সচেতনতা। আপনার একমত্র সন্তান তাই আপনি শাষণ করবেন না তাতো হয় না। ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে সঠিক ইসলামী জ্ঞান ঢুকিয়ে দিন যেন কেউ ভূল বুঝিয়ে তার মগজ ধোলাই না করতে পারে। সে যেন ছোটবেলা থেকেই আস্তে আস্তে কোনটা ভালো কোনটা মন্দ সেটা বোঝা শিখে। ছেলে মেয়েকে বেশী বেশী সময় দিন, তাদেরকে একা করে দিবেন না। আর একটা কথা হুজুরদের নিয়ে যে সবার মন্দ ধারণা সেটা দূর করতে হবে, আপনার সন্তানকে একজন ভালো হুজুরের কাছে পাঠান। তিনি তাকে সঠিক সুন্দর পথ দেখাবেন, সঠিক ইসলামী জ্ঞান দিবেন।
কেন মুসলমানরায় শুধু জঙ্গী হয় এটা নিয়ে পরে লিখব।
Comments
Post a Comment