Skip to main content

শিক্ষককে শ্রদ্ধা দেখানো।

শিক্ষক কে? যে আমাকে কিছু শিখিয়েছে নাকি যে আমাকে পাঠ্যপুস্তক পড়তে ও জানতে শিখিয়াছে। আমরা সাধারণত শিক্ষক বলতে বুঝি যিনি আমাকে স্কুল কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়াছেন। পড়াশুনা ছাড়া সঠিক মানুষ হওয়া যায় না। আর যারা আমাকে সঠিক মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে তাদের জায়গা যে কোন জায়গায় বা তাদের সম্মান যে কতটুকু সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। যে সঠিক মানুষ হবে সে ঠিকই শিক্ষককে কখনো অসম্মান করতে পারবে না। শিক্ষককেউ হতে হবে সৎ ও বিনয়ী। শুধু পাঠ্যপুস্তক পড়ানোই একজন শিক্ষকের দায়িত্ব না, সমাজের প্রতি, তার ছাত্রছাত্রীদের প্রতিও তার অনেক দায়িত্ব। তার জীবন দর্শন হবে শিক্ষণীয়, তাকে দেখে সবাই শিখবে। তবেই না সে শিক্ষক।

আমি যখন উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ি তখন আমাদের প্রধানশিক্ষক ছিলেন মতিন স্যার। স্যাররে দেখে অনেক ভয় পেতাম আমরা সবাই। সে রুম থেকে বের হলে আমরা আর ভয়ে কেউ ক্লাসরুমের বাইরে থাকতাম না। সে অনেক ভালো একজন শিক্ষক ছিলেন। যখন উনি ক্লাস নিতেন যত সময় ক্লাসে থাকতেন তত সময় ভয়ে, আতংকে থাকতাম। উনি অবশ্য অনা কারণে কাউকে মারতেন না। এত ভয় পেতাম তবুও তাকে অনেক শ্রাদ্ধা করি এখনও। শুধু সে না এখন স্কুলের শিক্ষকদের সাথে রাস্তায় দেখা হলে সালাম দিয়ে কথা বলি। তারা অনেক খুশী হয়, আর কতটা খুশী হয় সেটা মুখ দেখেই বোঝা যায়। স্কুলে থাকতে যাদের সাথে কথা বলতে ভয় পেতাম শুধু সালাম দিয়েই চলে যেতাম এখন তারা আগ্রহ নিয়ে কথা বলে। অনেক ভালো লাগে তখন।

এখনকার পোলাপাইন যা হয়ছে তারাতো শিক্ষককে দোস্ত বানিয়ে নিয়েছে, একটু বয়স্ক বা অবসরে যাওয়া শিক্ষক দেখলেতো এমন ভাব করে চেনেই না কথা বলাতো দূরে থাক। আবার এখনকার কিছু কিছু শিক্ষক আছে যারা শিক্ষাকে ব্যবসা বানিয়ে ফেলেছে। তারা ছাত্রদের সাথে গলাই গলাই পীরিত দেখাই, এটারও কারণ আছে। ছাত্রও ডিজিটাল হয়ছে, পীরিত না দেখালে তার কাছে কেউ প্রাইভেট পড়তে যাবে না। শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধাভক্তি কমে যাচ্ছে, এর জন্য আমি মনে করি কিছু নতুন শিক্ষক দায়ী, যারা শিক্ষাকে ব্যবসা বানাতেও প্রস্তুত। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মতো এখনকার পোলাপাইনদের দেখেই শিখবে, তারা হয়ত শুধু শিক্ষাগুরুর মর্যাদা কবিতায় পড়বে বাস্তবে আর শ্রদ্ধা ভক্তি দেখাবে না।

এখনকার সমাজও চাই যেন শিক্ষক আর ছাত্রদের মাঝে কোন দেয়াল না থাকে। সবাই বন্ধু হয়ে যাক, শিক্ষক ছাত্র কখনোই বন্ধু না আর এটা হলেই শুধু শিক্ষক না গুরুজনদের প্রতিও শ্রদ্ধাভক্তি কবে যাবে।

Comments

Popular posts from this blog

অভিভাবকদের নিয়ে কিছু কথা।

আপনি আপনার সন্তানকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বড় অফিসার বানান সবই ঠিক আছে কিন্ত সবার আগে তাকে মুসলমান বানান। ইসলামী জ্ঞান তার ভেতরে প্রবেশ করান। কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা, ক...

কি আছে সামনে..........

বেশী দূরে না যায়, তনু হত্যা থেকেই শুরু করি। তনুকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হলো, যখন এই নিয়ে দেশ উত্তাল, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর ওয়াল ভরা শুধু তনুর জন্য ভালোবাসা তখনই আমাদের মগজ ধোলাই করা জঙ্গীরা হাজির, ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের ধরা হলো, মারা হলো। তখন এই নিয়েও অনেক প্রশ্ন শুরু হলো, নাজানি ঘটনা কোন দিকে মোর নেই। খোজা হলো জিওল মাছ কি আর আছে (যুদ্ধাপরাধী), নাই। তাইলে কি করা যায়, ওমা এর মাঝেই বদরুল সাহেব হাজির তার চাপাতি নিয়ে হাজির। তাকে হয়ত কোরবানি ঈদের গরু কাটতে দেওয়া হয়েছিলো না তাই সে গরু মনে করে খাদিজা আপারে কোপাইলো। বাংলাদেশে একটা ঘটনা সামনে চলে আসলে সেই জাতীয় অনকে ঘটনায় তখন বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রকাশ পাই। আমরা হয়ত অনেক অনুকরন প্রিয় তাই। যেমনটা তনু হত্যার পরে রিসাকে ঢাকায় হত্যা করা হয়েছিল। এই সময়ে আবার কে যেন বদরুলের মত কোপানো রিপ্লে দেখালো, শুধু নারী নির্যাতনই না ওই দিকে দিনাজপুরে এক চাচা কিন্ত ৫ বছরের শিশুকে ভূল করে ধর্ষণ করে ফেলেছে। তাকে ধরা হলো, এবার দেশের বিভিন্ন কোনা থেকে শিশু ধর্ষণের খবর আসতে লাগলো। সামাজিক অবক্ষয় যখন চরমে আবার জিওল মাছওও নাই তাহলে কি করা যায়। প্রধান...