Skip to main content

আস্তিক, নাস্তিক ও আমার দেশ

আপনি আস্তিক নাকি নাস্তিক এটাই এখন বড় কথা হয়ে দাড়িয়েছে আমাদের দেশে। এর জন্য অবশ্য দুই শ্রেণীর মানুষ দায়ী আমার মনে হয়। এক শ্রেণীর মানুষ যারা ধর্মীয় গোড়ামী দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভূলিয়ে লাভবান হতে চায় আর আর এক শ্রেণীর মানুষ যারা এই গোরামীর বিরুদ্ধে গিয়ে নিজস্ব মতবাদে বিশ্বাসী থাকে।

এখন কথা হল আস্তিক কি আর নাস্তিক কি? অনেকেই সেটা জানেন না আর না জেনেই লাফানো শুরু করে দেন। সহজ কথায় আস্তিক হল সে যে বিশ্বাস করে যে সৃষ্টিকর্তা আছেন এবং যে কোন এক ধর্মের অনুসারী থাকে সে। আর নাস্তিক হল সে যে বিশ্বাস করে সৃষ্টিকর্তা কেউ নেই সব প্রাকৃতিক ভাবে হয়েছে এবং প্রাকৃতিক ভাবেই শেষ হয়ে যাবেন আর তাই সে কোন ধর্মে বিশ্বাস করে না, যেটাকে বলা হয় মুক্তমনা।

ধর্ম হল বিশ্বাস, একান্তই ব্যক্তিগত। এখানো জোর করার কিছু নাই বলে আমি মনে করি। কে কেন কোন ধর্মে বিশ্বাসী বা বিশ্বাস করবে সেটা আমার বিষয় না। আমার বিষয় আস্তিক, নাস্তিক ও আমার দেশ। আপনি আস্তিক হোন বা নাস্তিক হোন সেটা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত ব্যপার। আপনি আস্তিক বলে নাস্তিককে গালি দেবেন বা নাস্তিক বলে আস্তিককে গালি দেবেন এটা মোটেও কাম্য না।

আমাদের দেশে এখন কিছু মুক্তমনা হয়েছেন যারা ধর্ম নিয়ে আজেবাজে কথা বলছেন। আপনি নাস্তিক ভালো কথা কিন্তু কারো ধর্ম নিয়ে বাজে কথা বলার অধিকার আপনার নেই। আপনি আপনার বিশ্বাস  নিয়ে থাকেন আর আস্তিকদের তাদের বিশ্বাস নিয়ে থাকতে দিন তাহলে আর কোন ঝামেলা হয় না। একটা মানুষের সবচেয়ে দূর্বল জায়গা হল তার ধর্ম আর সেটাকে কাজে লাগিয়েই আদিম যুগ থেকে কিছু মানুষ ব্যবসা করছে। এই বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তুললে মাথাতো গরম হবেই আর কিছু মানুষ এই বেশী গরম হওয়া মাথাগুলোকেউ খুজে নিয়ে তাদেরকে দিয়ে খুনের মত জঘন্য কাজ করিয়ে নিচ্ছে। এই নাটের গুরুগুলো সবার ধরাছোয়ার বাইরেই থাকছে। এই মানুষগুলোই বিপদজনক, এরাই আমাদের সমাজের ক্যন্সার আর এই ক্যন্সার আস্তে আস্তে সমাজের সবখানে ছড়িয়ে পড়ছে।

এখন কথা হল সমাজ থেকে এই ক্যন্সার দূর করা যায় কিভাবে? আর এরা কেনই বা এমন করে? এরা চায় আসলে জাতির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে। চাই পাশের প্রতিবেশীকে শত্রু বানাতে এতে করে তাদের ধর্ম ব্যবসা ভালো চলবে। তারা যদি এটা না করে তাহলে তাদের কাছে কেউ যাবে না তাদের ইনকামও হবে না। তারা কোন রকম শারীরিক পরিশ্রম ছাড়ায় ইনকাম করছে শুধু এই বিভেদ ছড়িয়ে। আসলে নিজেরা সচেতন না হলে এই ক্যন্সার দূর করা সম্ভব না। আপনি নিজে যদি সচেতন না হন সরকার কি করবে। সরকারের আরো অনেক কাজ আছে। তাই আসুন আমরা মুক্তমনা থেকে দূরে থাকি আর ওই সব মানুষ থেকেও যারা উষ্কানী দেই। নিজ দায়িত্ববোধ থেকে এদের খুজে বের করে তার থেকে দূরে থাকতে হবে।

Comments

Popular posts from this blog

শিক্ষককে শ্রদ্ধা দেখানো।

শিক্ষক কে? যে আমাকে কিছু শিখিয়েছে নাকি যে আমাকে পাঠ্যপুস্তক পড়তে ও জানতে শিখিয়াছে। আমরা সাধারণত শিক্ষক বলতে বুঝি যিনি আমাকে স্কুল কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়াছেন। পড়...

অভিভাবকদের নিয়ে কিছু কথা।

আপনি আপনার সন্তানকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বড় অফিসার বানান সবই ঠিক আছে কিন্ত সবার আগে তাকে মুসলমান বানান। ইসলামী জ্ঞান তার ভেতরে প্রবেশ করান। কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা, ক...

কি আছে সামনে..........

বেশী দূরে না যায়, তনু হত্যা থেকেই শুরু করি। তনুকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হলো, যখন এই নিয়ে দেশ উত্তাল, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর ওয়াল ভরা শুধু তনুর জন্য ভালোবাসা তখনই আমাদের মগজ ধোলাই করা জঙ্গীরা হাজির, ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের ধরা হলো, মারা হলো। তখন এই নিয়েও অনেক প্রশ্ন শুরু হলো, নাজানি ঘটনা কোন দিকে মোর নেই। খোজা হলো জিওল মাছ কি আর আছে (যুদ্ধাপরাধী), নাই। তাইলে কি করা যায়, ওমা এর মাঝেই বদরুল সাহেব হাজির তার চাপাতি নিয়ে হাজির। তাকে হয়ত কোরবানি ঈদের গরু কাটতে দেওয়া হয়েছিলো না তাই সে গরু মনে করে খাদিজা আপারে কোপাইলো। বাংলাদেশে একটা ঘটনা সামনে চলে আসলে সেই জাতীয় অনকে ঘটনায় তখন বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রকাশ পাই। আমরা হয়ত অনেক অনুকরন প্রিয় তাই। যেমনটা তনু হত্যার পরে রিসাকে ঢাকায় হত্যা করা হয়েছিল। এই সময়ে আবার কে যেন বদরুলের মত কোপানো রিপ্লে দেখালো, শুধু নারী নির্যাতনই না ওই দিকে দিনাজপুরে এক চাচা কিন্ত ৫ বছরের শিশুকে ভূল করে ধর্ষণ করে ফেলেছে। তাকে ধরা হলো, এবার দেশের বিভিন্ন কোনা থেকে শিশু ধর্ষণের খবর আসতে লাগলো। সামাজিক অবক্ষয় যখন চরমে আবার জিওল মাছওও নাই তাহলে কি করা যায়। প্রধান...