“ইসলাম সম্পর্কে কটুক্তি” – এই নিয়ে বেশ কয়কটি ঘটন অঘটন ঘটে গেল। কোন অখ্যাত সকুলের হিন্দু শিক্ষক ইসলাম সম্পর্কে কটুক্তি করায় তার চাকরি যায় আবার অন্য হিন্দু শিক্ষকে এম পি মহাদয় কানে ধরে উঠবস করায় – এসব ঘটনা একটা বিষয়ই বুঝায় তা হল “আমাদের ইসলাম সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান নাই”। কারন যখন জামাতের প্রাক্তন আমীর নরকীয় গোলমাল আজম বলল “কোরানের বিন্যাস ঠিক নেই” বা তার গুরুজী নরকীয় মউদুদী তার তফসিরে হিহুদি ও খ্রিষ্টানদের অনুকরনে অন্যান্য নবী (আঃ) ও সাহাবী (রাঃ) দের প্রকাশ্য গীবত করে তখন তাদের কেউ ইসলাম সম্পর্কে কটুক্তিকারী বলে নাই। মউদুদির বিরুদ্ধে তখন বাংলা ও পাকিস্থানের আলেমরা কলম ধরলেও গোলমাল আজম ও রাজাকার সাইদীর বিরুদ্ধে তথাকথিত আলেমরা নিশ্চুপ ছিল। বরং হেফাজতে ইসলাম করে তারা রাজাকারদের ফাঁদে পা দিয়ে দেশে ব্যাপক ফেতনার সৃষ্টি করে।
আমাদের দেশে ইসলামের আবেগ আছে কিন্তু নেই জ্ঞানচর্চা ও নেই তেমন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ত । জ্ঞানহীন আবেগ হালহীন নৌকার মত আর প্রজ্ঞাহীন ধর্মচর্চা ফেতনা আর হানাহানির পথপ্রদর্শক ।
আসলে ইসলাম সম্পর্কে কটুক্তি বলতে কি বুঝায়? এর শরিয়তে শাস্তি কি? বাংলাদেশে তো শরিয়া আইন চালু নেই তবে এই নিয়ে কিছু করতে গেলে কি নতুন আইন লাগবে নাকি বর্তমান কোন আইন আছে? আমি জানি না। মাননীয় সরকার বাহাদুর হয়ত ঠিক করবেন।
ইসলাম রাসুল সঃ সাহাবী এই সব বিষয়ে যে যা খুশি বলুক তাও আমরা চাই না আবার যে কেউ কিছু বললেই তাকে অপমানিত ও অপদস্ত করা হবে তাও চাই না। একজন বিধর্মী তো ইসলাম মানে না এবং তাকে শ্রেষ্ট ধর্ম মানে না বলেই তো সে বিধর্মী। তো এই কথাটা সে বললে তাকে অপদস্ত হতে হবে এটা কেমন কথা? বিধর্মী কে তার ধর্মের কারনে অপদস্ত করা এ তো নবী সাঃ বা তার সাহাবী রাঃ দের শিক্ষা নয়। এই ঘটনা গুলো আবার আন্তজাতিক মহলে নিয়ে আরেক ধরনের রঙ দেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ আর ইসলামের বদনাম, দুদিকেই আমাদেরই ক্ষতি। যেমন আমরা ফাঁসিতে ঝুলালাম একজন কুখ্যাত যুদ্ধপোরাধীকে আর বিবিসি তার শিরনামে বলল একজন ইসলামিক নেতাকে বাংলাদেশ ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে।
ওমার রাঃ এর সময়কার ঘটনা। এক ইহুদি নতুন দুটি গাধা কিনে তাদের নাম রাখলো আবু বকর ও ওমার। ঘটনাটি ওমার রাঃ কে জানানো হলে তিনি বললেন "সে তা করতেই পারে আবু বকর ও ওমার প্রচলিত নাম আর গাধাও তার নিজের"। এর পরের ঘটনা আরও মাজার কিন্তু প্রাসংগিক নয় তাই বাদ দিলাম। এটা হল ইসলামের সহিষ্ণুতা। এরকম আরও ঘটনা আছে।
অতএব সরকার কে অতি শিঘ্রই ধর্ম জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে এই বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট আইন করে, সাধারনকে জানানোর জন্য আহ্বান করছি।
আবারও বলি আমাদের দেশে ইসলামের চর্চাটা কেমন জানি বেপথে চলে যাচ্ছে, এরকম ঘটনা আরও ঘটবে বলেই মনে হয়। কাজেই মুক্তবুদ্ধির চর্চার বাউন্ডারিটা জানা খুবই প্রয়োজন। অবশ্য এখন আশার কথা হল কেউ কথা না বললেউ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিন্তু ঠিকই বলেছেন যে মুক্তচিন্তার নামে ধর্ম অবমাননা করা চরম অন্যায়। আসলে আমাদের দেশে অনেক ইসলামিক দল রাজনৈতিক দল হয়ে গেছে, যাদের বিভিন্ন কথার মাধ্যমে এমনিতেই আমরা সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যায়।
( কিছুটা সংগ্রীহিত )
Comments
Post a Comment