Skip to main content

আধুনিক ব্যাবসা নিয়ে কিছু কথা।

 ইসলাম ধর্ম মতে ব্যাবসা হলো একটা মহৎ পেশা। পবিত্র কোরআনে কীভাবে ব্যাবসা করতে হবে তার বর্ণনা দিয়ে একটা সূরা আছে। আমরা বাংলাদেশিরা মুসলিম প্রধান দেশে বসবাস করি আর এই নিয়ে আমাদের গর্বের শেষ নেই। অথচ আমাদের কাজের ভেতরে কোন দিক থেকেই ইসলাম প্রকাশ পায় না। আমরা নামে মুসলমান, কাজে না। আমি নিচে এই বিষয়ে কিছু উদাহরণ টানবো।


উদাহরণ -১:

আজকালকার ব্যবসায়ীদের একটা কমন পোশাক আমি খেয়লা করে দেখলাম তা হলো মাথায় টুপি দিয়ে রাখা। দাড়ি থাকুক বা না থাকুক মাথায় টুপি আছে, পাঞ্জাবি পরা থাকুক বা না থাকুক মাথায় টুপি আছে। আমার ধারণা এই টুপি মাথায় দেওয়ার মানে ভক্তি না, ভন্ডামি করা। আমি আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। এগুলো কেন জানি খুব আমার চোখে পরে। এরা একটা ধর্মের লেবাস পরে আপনাকে ধোকা দেয়। আপনি বুঝবেন আপনি বাশ খাচ্ছেন বা খেয়েছেন কিন্তু সেই টুপি ওয়ালার কোন হেলদোল নেই। আসলে টুপি দেখিয়ে সাময়িক আপনার কাছ থেকে বিশ্বাস অর্জন করে আপনাকে বড় বাশটা দেয় এরা। ভাই সবাই কিন্তু খারাপ না। আজ আমি অনেক অভিজ্ঞতা শেয়ার করব।

ঢাকা শহরের বেশিরভাগ (প্রায় ৯৯%) বিরিয়ানির দোকানীর মালিক হাজী। বিশ্বাস না হলে একটু খেয়াল করে দেখেন। আমারতো মনে হয় ঢাকায় বিরিয়ানির দোকান দেওয়ার প্রথমিক শর্তই হয়ত হজ্ব করা। এই হাজী হওয়াতে আমার সমস্যা নেই কিন্তু আমার কথা হলো সারা ঢাকা জুড়ে বিরিয়ানির দোকানদারদের মাঝে এই একটা বিষয়ে মিল কেন হবে। তারমানে বিরিয়ানির সাথে হাজী শব্দের একটা লিংক আছে। 


উদাহরণ -২:

আজকালকার তরমুজ ব্যবসায়ীদের দেখে আমার খুব খারাপ লাগে। এরা কেমন বড় রকমের বাটপার, আড়ত থেকে তরমুজ কিনে আনে পিচ বা ডজন বা শতক হিসেবে আর সেটা বিক্রি করে কেজি হিসেবে। কতবড় বাটপারি, আমিতো বলবো এটা পুরাই ডাকাতি। দুই বছর আগেও এমনটা ছিলো না। এখন সবাই এই ট্রেন্ড ফলো করে। সব সৎ ব্যাবসায়ীরাই এখন কেজিতে তরমুজ বিক্রি করে। এটা কিন্তু আমি একা না আমরা সবাই জানি কিন্তু ওইযে বিড়ালের গলায় ঘন্টাটা পড়াবে কে? প্রশাসনের কোন হেলদোল নাই এ বিষয়ে। আমার এটা দেখে খুব রাগ হয়েছে আর ভেবেছি আমি কেজি দরে তরমুজ কিনবো না। আমার মৌন প্রতিবাদ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে। জানি তাতে কোন পরিবর্তন হবে না কারণ আমি না কিনলেও আরেকজন কিনবে। তারা কত বড় হারামি, কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করবে ঠিক কিন্তু কেটে ছোট করে হাফ কেজি বা এক কেজি বিক্রি করবে না। পুরাটা কিনতে হবে কেজি দরে যা দাম হয়। স্বভাবতই একটা বড় তরমুজ যে ৫-৭ কেজি বা আরো বেশি হচ্ছে যা সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। আর এগুলো খাচ্ছে কিছু অসাধারণ মানুষ। যেমনটা হয়েছে ইলিশের বেলায়। কেটেও বিক্রি করবে না আবার দামও অনেক বেশি। সব দোকানেই অনেক অনেক তরমুজ এবং তা বিক্রি হচ্ছে। আপনি ন কিনলে আরেকজন কিনবে। বিক্রি না হলেই কি, দুই একটা নষ্ট হলেই বা কী, ব্যাবসায়ীরা যে লাভের সন্ধান পেয়ে গেছে তরমুজের মাঝে তা কী তারা ছাড়বে।

শুনেছি হাজার বছর আগে ফেরয়াউনের প্রথব ব্যাবসা ছিলো তরমুজের। সে বাজার থেকে পিচ হিসেবে কিনে সেটা কেজি হিসেবে বেশি লাভে বিক্রি করত। তাতে তরমুজের দাম অনেকের নাগালের বাইরে চলে যায়। ঘটনার সত্যতা জানি না। এমনটা যদি হয় তাহলে আমাদের ব্যবসায়ীরা এখন আধুনিক কাছের এক একটা ফেরয়াউন। তা বললেতো হবে না, এরা দাড়ি টুপি পরা অনেক পরহেজগার ফল ব্যাবসায়ী। এই জুলুম কী ইসলাম শিখিয়েছে আমাদেরকে!!!


উদাহরণ -৩ঃ


Comments

Popular posts from this blog

শিক্ষককে শ্রদ্ধা দেখানো।

শিক্ষক কে? যে আমাকে কিছু শিখিয়েছে নাকি যে আমাকে পাঠ্যপুস্তক পড়তে ও জানতে শিখিয়াছে। আমরা সাধারণত শিক্ষক বলতে বুঝি যিনি আমাকে স্কুল কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়াছেন। পড়...

অভিভাবকদের নিয়ে কিছু কথা।

আপনি আপনার সন্তানকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বড় অফিসার বানান সবই ঠিক আছে কিন্ত সবার আগে তাকে মুসলমান বানান। ইসলামী জ্ঞান তার ভেতরে প্রবেশ করান। কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা, ক...

কি আছে সামনে..........

বেশী দূরে না যায়, তনু হত্যা থেকেই শুরু করি। তনুকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হলো, যখন এই নিয়ে দেশ উত্তাল, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর ওয়াল ভরা শুধু তনুর জন্য ভালোবাসা তখনই আমাদের মগজ ধোলাই করা জঙ্গীরা হাজির, ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের ধরা হলো, মারা হলো। তখন এই নিয়েও অনেক প্রশ্ন শুরু হলো, নাজানি ঘটনা কোন দিকে মোর নেই। খোজা হলো জিওল মাছ কি আর আছে (যুদ্ধাপরাধী), নাই। তাইলে কি করা যায়, ওমা এর মাঝেই বদরুল সাহেব হাজির তার চাপাতি নিয়ে হাজির। তাকে হয়ত কোরবানি ঈদের গরু কাটতে দেওয়া হয়েছিলো না তাই সে গরু মনে করে খাদিজা আপারে কোপাইলো। বাংলাদেশে একটা ঘটনা সামনে চলে আসলে সেই জাতীয় অনকে ঘটনায় তখন বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রকাশ পাই। আমরা হয়ত অনেক অনুকরন প্রিয় তাই। যেমনটা তনু হত্যার পরে রিসাকে ঢাকায় হত্যা করা হয়েছিল। এই সময়ে আবার কে যেন বদরুলের মত কোপানো রিপ্লে দেখালো, শুধু নারী নির্যাতনই না ওই দিকে দিনাজপুরে এক চাচা কিন্ত ৫ বছরের শিশুকে ভূল করে ধর্ষণ করে ফেলেছে। তাকে ধরা হলো, এবার দেশের বিভিন্ন কোনা থেকে শিশু ধর্ষণের খবর আসতে লাগলো। সামাজিক অবক্ষয় যখন চরমে আবার জিওল মাছওও নাই তাহলে কি করা যায়। প্রধান...